লাখো কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হবে পবিত্র আরাফাতের পাহাড়

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২২

লাখো কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হবে পবিত্র আরাফাতের পাহাড়

লাখো কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’ মাতা লাকা ওয়ালমুলক লা শারিকা লাক… প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হবে পবিত্র আরাফাতের পাহাড় ঘেরা ময়দান। যার অর্থ− ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনও শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

ফজরের ওয়াক্তের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখ লাখ মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে জড়ো হচ্ছেন। হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবেন তারা। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন। এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন শায়খ মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল ঈসা।

এই ময়দানেই মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বিশ্বের ১০ লাখ হজযাত্রী সমবেত হচ্ছেন ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে।

মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে এখানে যেতে হয়। হাজিরা নামিরা মসজিদ থেকে দেওয়া খুতবা শোনার পর জোহর ও আসরের নামাজ একইসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করবেন। তারপর হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কোরান তেলওয়াতের মাধ্যমে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করবেন। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন হাজিরা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

শনিবার (৯ জুলাই) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৬০ হাজার মুসল্লি হজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

হাজিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মক্কা ও মদিনায় হাজিদের জন্য ২৩টি হাসপাতাল ও ১৪৭টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করেছে। ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ