নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএমকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৪

নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএমকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল দুটি কিংস পার্টি। তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএম নামে দুটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটেছিল। এই দুটি রাজনৈতিক দলই বিএনপির পরিত্যক্ত নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল।

বিএনপির সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী এবং তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির আরেক প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজমুল হুদা গঠিত তৃণমূল বিএনপির হাল ধরেছিলেন। তারা একজন চেয়ারম্যান এবং একজন মহাসচিব হিসেবে এই দলটিকে কিংস পার্টি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করিয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে তারা চমক দেখাবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু, আজ ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, তৃণমূল বিএনপির বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।

তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সিলেট-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে তিনি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীতাই গড়ে তুলতে পারেননি। ওই আসনে তিনি জামানত হারাতে যাচ্ছেন বলে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

একইভাবে তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা গাজী গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু, সেখানেও তিনি সুবিধা করতে পারেননি। তৃণমূল বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীরাও নির্বাচনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। কোথাও তারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন এমন তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তৃণমূল বিএনপির চেয়েও করুণ অবস্থা বিএনএম’র। বিএনএম এবার নির্বাচনে ১৮৭ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কোনও আসনেই তারা দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছেন বলে এখন পর্যন্ত প্রতীয়মান হচ্ছে না।

সাধারণ মানুষ দলছুট রাজনীতিবিদদের যে পছন্দ করে না, কিংস পার্টি এই বিপর্যয় তার একটি বড় কারণ। নির্বাচনে তারা হাঁক-ডাক করলেও এবং বিভিন্ন রকম আশার বাণী শোনালেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে তাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণ তাদের দিকে ফিরে তাকাইনি। আর এ কারণেই এবার কিংস পার্টির একটা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটল এই নির্বাচনে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ