আজ এমপিরা শপথ নেবেন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে বৃহস্পতিবার।

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৪

আজ এমপিরা শপথ নেবেন।   নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে বৃহস্পতিবার।

ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পঞ্চম বারের মতো মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে। এই মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, না থাকবেন- এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে বিভিন্ন মহলে। তবে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে চমক দেখিয়ে আসছেন। এবারও একই ধরনের চমক থাকবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, মন্ত্রিসভা কী রকম হবে, কারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন এটি চূড়ান্ত করেছেন শেখ হাসিনা একাই। এ ব্যাপারে তিনি তার ছোট বোন শেখ রেহানার পরামর্শ নিচ্ছেন। অন্য কেউই মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যাপারে তেমন কিছু জানেন
না। আজ নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যা সাতটায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বঙ্গভবনে হবে এই শপথ অনুষ্ঠান।

আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার ‘ক্লিন ইমেজধারী’ ও অভিজ্ঞ সদস্যরা নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। আর নতুন করে যুক্ত হবেন দলের সিনিয়র ও ত্যাগী নেতারা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, জোট ও স্বতন্ত্রদের কেউ কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অন্তত দু’জনকে মন্ত্রী করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে এখন পর্যন্ত তাদের এ দাবি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলে জানান দলটির কয়েক নেতা। তারা মানবজমিনকে জানান, জাতীয় পার্টি এবার ১১টি আসন নিয়ে সংসদে বসবে। তারা এখন মন্ত্রিসভা নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেছে। ওদিকে মনোনয়নবঞ্চিত ও নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন এমন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে দু’জনকে নিয়ে। তারা হলেন-জাসদের হাসানুল হক ইনু ও মাগুরা থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের এমপি সাইফুজ্জামান শিখর। এর মধ্যে হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রী ও সাইফুজ্জামান শিখরকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানকেও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে এবার রাজধানী ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের দু’জনের যে কোনো একজনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। নড়াইল এক্সপ্রেসখ্যাত ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্তজাকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে জানান একাধিক নেতা।
অন্যদিকে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোহাম্মদ এ আরাফাতের। তাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তাদের কারও কারও দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। দলটির কয়েক নেতা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে যারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তাদের কেউ কেউ এবার বাদ পড়তে পারেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক সংস্থা দিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করিয়েছেন। সেখানে দু’টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে জানান নেতারা। মানবজমিনকে তারা বলেন, প্রথমত যেসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে আমলাদের একাধিক অভিযোগ ছিল তারা এবার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়বেন।

দ্বিতীয় ইস্যু হিসেবে দেখা হয়েছে- মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরে যারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় নানা ধরনের অসাংগঠনিক কাজ করেছেন, বিশেষ করে দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছেন তাদেরকে বাদ দেয়া হতে পারে। নির্বাচনের আগে অনেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আসনের নেতারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তারা জানান। এবারের মন্ত্রিসভা কেমন হতে পারে, জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক জ্ঞানী মানুষ। দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা উনার ঠিক করা আছে। এটা উনি জানেন, কোথায় কাকে কখন নেয়া দরকার। এটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠিক করেন। সারা পৃথিবীতেও এটিই নিয়ম। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকবেন, তা নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। উনি অনেক বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নেন। এক্ষেত্রেও তাই হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ