মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ বাড়ানোর বাজেট : বিশ্লেষণ

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৪

মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ বাড়ানোর বাজেট : বিশ্লেষণ

এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তার কোনো দিগদর্শন নেই। তার ওপর এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৭৫ শতাংশ আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা অর্জনযোগ্য নয়। তা ছাড়া কোন প্রক্রিয়ায় প্রবৃদ্ধি হবে তার কোনো পরিষ্কার ধারণাও ছিল না বাজেটে।

ওভারঅল বলতে গেলে এবারের বাজেটকে বলতে হবে কিছুটা পজিটিভ। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশের কথা বলা হয়েছে। তাই এক দিক থেকে এবারের বাজেট পজিটিভ মনে হচ্ছে। কিন্তু নতুন করে করারোপ ও করছাড়ের বিবেচনায় এটা মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ বাড়ানোর বাজেট।

কারণ ব্যক্তি শ্রেণির সর্বোচ্চ করসীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা ছড়া বাকিগুলো সবই পড়বে মধ্যবিত্তদের ওপর। বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিগদর্শন থাকা উচিত ছিল। দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। তাদের ওখানেই বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

কিন্তু এসব বিষয়ে স্পষ্ট কিছু ছিল না বাজেটে।
একটি গবেষণায় এসেছে, দেশে ধনী ও উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষের ৮৭ শতাংশ কোনো ধরনের আয়কর দেন না, যা খুবই অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু তাদের থেকে কিভাবে কর আদায় করা হবে বা করজালের অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা স্পষ্ট নয়। তার পরও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

এখন আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা মুদ্রাপাচার, করখেলাপি ও ঋণখেলাপি। এই সমস্যা খুব সহজেই সমাধানযোগ্য। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানের কোনো কথাই নেই। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু তিন মাস পর মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এক লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এ খাতের বিতরণ করা ঋণের ১১.১১ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।দেশের স্বার্থে এসব লোককে আইনের আওতায় আনা উচিত। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি। তাই বলাই যায়, এবারের বাজেট ‘একশ্রেণির ব্যবসাবান্ধব’।

গত মাসে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর জন্য আমি বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ তারা ডলারের দামকে বাজারের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। কিন্তু এবারের বাজেটে রপ্তানি খাত নিয়ে হেলাফেলা করা হয়েছে। মাত্র চার বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি দিয়ে ডলার অস্থিরতা কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? ডলার আয় বাড়াতে চাইলে রপ্তানি বহুমুখী করা খুব জরুরি। কিন্তু রপ্তানি বহুমুখী করার কোনো চেষ্টা বাজেটে দেখলাম না।

কিছুদিন আগে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। এটা আরো আগেই করা উচিত ছিল। কারণ প্রায় তিন বছর ৯ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখা হয়েছিল ব্যাংকঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার। ৯ শতাংশে বেঁধে রাখার কারণে দেশের বহুত ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই ক্ষতি সামাল দিতে আরো সময় লাগবে। ঋণের সুদের হার বাড়লে ভালো উদ্যোক্তারা ঋণ বেশি পায়। আর সেটা উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সুদহার কম থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ঋণের সুযোগ নেয়। আমাদের দেশে ঋণের সুদহারের চেয়ে টেবিলের তলের খরচ বেশি। সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য উৎপাদন আরো সহজ হবে।