জামায়াত প্রার্থীর নাটক জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে : আহমদ বিলাল

প্রকাশিত: 11:45 PM, February 6, 2026

জামায়াত প্রার্থীর নাটক জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে : আহমদ বিলাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিস মনোনীত দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান জোটগত সিদ্ধান্ত অমান্য করে পরিকল্পিত নাটক সাজিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে মৌলভীবাজার ও রাজনগরের মানুষ এই নাটক ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে চড়ে বেড়ান। সন্ধ্যা ৬টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা বাজার, এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে দেয়ালঘড়ি মার্কার প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলালের পক্ষে বিশাল গণসংযোগ জনসমুদ্রে পরিণত করেছে মৌলভীবাজার শহর। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা দেয়ালঘড়ির স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন বলেন, “এই আসনে ১১ দলীয় জোটের একমাত্র প্রার্থী আমি। এটা জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে স্পষ্টভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা অমান্য করেছেন।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনে আব্দুল মান্নান নিজের বাড়িতে বড় বড় ডেগ বসিয়ে রান্না করেছেন। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে কিছু রিকশা, টমটম ও ভ্যানচালক ভাড়া করে নিজের বাড়িতে ব্যারিকেড দিয়ে ‘ঘেরাও নাটক’ সাজানো হয়, যেন মানুষ মনে করে তিনি অবরুদ্ধ।”

মাওলানা আহমদ বিলাল আরও বলেন, “আমি নিজে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছি। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমার সঙ্গে ছিলেন। অথচ আব্দুল মান্নান ঘরে থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন এবং বাড়ির লোকজন দিয়ে বলা হয় তিনি নাকি বাড়িতে নেই। এটা রাজনীতির নামে সরাসরি প্রতারণা।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন। অথচ তাদের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমন নাটক করছেন—এটা দুঃখজনক। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত বলেছেন, তিনি তো বাইরে বের হচ্ছেন না।”

আব্দুল মান্নানকে উদ্দেশ করে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন,
“আপনি যদি জামায়াতের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রকাশ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিন। টুপি-পাঞ্জাবি পরে মানুষকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন। আর কত মিথ্যা বলবেন?” এছাড়াও তিনি ৭ ফেব্রুয়ারী মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জামায়োতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান এক জনসভায় বক্তব্য দেবেন। সেই সেই জনসভা থেকে ডাঃ শফিকুর রহমান পরিষ্কার করে দেন যে আব্দুল মান্নান বিদ্রোহী প্রার্থী। এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। যদি ডাঃ শফিক না দেন, তাহলে জনগণ বুঝে নেবে, তাদের কেন্দ্রের ইন্ধন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন পরিষ্কার বুঝে গেছে—কে জোটের প্রার্থী, আর কে বিদ্রোহী। মৌলভীবাজার পৌরসভা, সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও রাজনগরের ৮টি ইউনিয়নের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।”

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “কোনো বাধা, কোনো নাটক, কোনো চাঁদাবাজ এই জনস্রোত থামাতে পারবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ ১১ দলীয় জোটের দেয়ালঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে মৌলভীবাজার–৩ আসনকে চাঁদামুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক আসনে পরিণত করবে, ইনশাআল্লাহ।”

উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বক্তৃতাকালে উপস্থিত জনতা স্লোগানে স্লোগানে বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

এদিকে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিন সন্ধ্যা ৬টায় শিমুলতলা বাজার, রাত ৭টায় বর্ষিজোড়া বাজার, সাড়ে ৮টায় বালিকান্দি এবং রাত ১০টায় এরাধানগর মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মাওলানা আহমদ বিলালের।

গণসংযোগে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও বিজয়ের প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ