ঢাকা [english_date] | [bangla_date]
প্রকাশিত: 12:38 AM, March 12, 2026
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন কমিটির ৩৩ সদস্যর ২৬ জন সদস্য। তাঁরা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর কাছে লিখিত আবেদন করে রিপনকে সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।
গত ৭ই মার্চ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে পাঠানো ওই অভিযোগপত্রে সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.ফয়জুল করিম ময়ূনকে আহ্বায়ক করে ৩২ সদস্যবিশিষ্ট মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটিতে সদস্য সচিবের পদ রাখা হয়নি। পরবর্তীতে নতুন আহবায়কের স্বেচ্ছাচারিতা কর্মকান্ডের জন্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম নাসের রহমান এর অনুরোধে একজন সিনিয়র নেতাকে সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মুকিতের নাম লিখিতভাবে প্রস্তাব করা হলেও পরে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় যা জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মী কে হতবাক করে।
এ সিদ্ধান্তে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির সেই সময়কার সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৯ জন সদস্য তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বরাবর রিপনকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করা হয়। এর প্রতিবাদে জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে দলীয় অচলাবস্থা নিরসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ-এর উপস্থিতিতে জেলা আহ্বায়ক কমিটির একটি সভা আহ্বান করা হয়। তবে শুরুতে ১৯ জন সদস্য এই বৈঠক বয়কট করলেও পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধে প্রতিবাদী সদস্যরা সভায় অংশ নেন।
আবেদনে সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে দলীয় নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে,সদস্য সচিবের পদ বাগিয়ে জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে তার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্যতা এবং দ্বি মূখী কর্মকান্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জেলা বিএনপির রাজনীতি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে রিপনকে অবিলম্বে সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলীয় মহাসচিবের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির ৩৩ সদস্যর ২৬ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা।
অভিযোগপত্রে আব্দুর রহিম রিপনে বিরুদ্ধে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে ব্যবসা–বাণিজ্য করেছেন। তাঁর ভাই ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি।
এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে সর্বজনবিদিত। ইতিমধ্যে তিনি জেলার মিনিবাস টার্মিনাল নিজের ব্যক্তিগত দখলে নিয়েছেন এবং এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাঁর ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে মানুষকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে অনেক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মানুষকে আসামি করে তিনি প্রচুর মামলা–বাণিজ্য করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের পলায়নের সুযোগ করে দিয়ে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬–এর সময় তিনি রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দায়িত্বে থেকেও কোনো কার্যকর কাজ করেননি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বস্ত সূত্রে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তিনি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে বিএনপির প্রার্থীকে হারানোর জন্য বড় অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছেন এবং জামায়াতের এজেন্ডা অনুযায়ী কাজ করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিনি জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে ন্যূনতম সম্মান দেখান না এবং একজনের সঙ্গে আরেকজনের বিরোধ সৃষ্টি করে চলেছেন। এসব কারণে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বরাবর একটি সভা আহ্বানের জন্য তাঁরা লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থার কথা মৌখিকভাবেও জানান এবং আব্দুর রহিম রিপনকে অনুপস্থিত রেখে সভা আহ্বানের অনুরোধ করেন।
তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি সভা আহ্বানের চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ওই সভা স্থগিত করা হয়।
এ অবস্থায় সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
চিঠির অনুলিপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন এবং সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি.কে গউছের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রধান সম্পাদক: নুরুল ইসলাম শেফুল অ্যাডভোকেট
সম্পাদক: মোঃ মতিন বকস
নির্বাহী সম্পাদক: শরীফ আহমেদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আফরোজ রায়হান
বার্তা সম্পাদক: পায়েল আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
মল্লিক কমপ্লেক্স পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০
ই-মেইল:nisheful@gmail.com
মোবাইল:+880 1778887058.01711224307.
01706760730,01711653241
Design by Raytahost