পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোর নিরাপত্তায় তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত: 8:05 PM, March 29, 2026

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোর নিরাপত্তায় তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তেল পাচার রোধ করা এবং শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর আওতাধীন তিনটি ওয়েল কোম্পানির নিরাপত্তায় তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার ২৯ মার্চ দুপুরে শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি তেলের ডিপোতে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। ডিপোগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা, তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে।

সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ৫টি জেলার (সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সুনামগঞ্জ জেলা) ১০টি জ্বালানী তেলের ডিপোসহ সারাদেশের মোট ৯টি জেলার মোট ১৯টি জ্বালানি তেলের ডিপোর নিরাপত্তা ও স্বতঃফূর্ত কার্যক্রম নিশ্চিতকল্পে বিজিবি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিপো কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়াও শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ ১১৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল মোতায়েনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে নিয়মিত ও আকষ্মিক চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইসিপি ও এলসিপিতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক-লরি ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে যেন অতিরিক্ত তেল বহন করে পাচার করতে না পারে সেজন্য যানবাহন সমূহ বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে। বিজিবি’র এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট বা পাচারের অপচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে, যা জনমনে আস্থা সুদৃঢ় করেছে।

তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যে কোনো সন্দেহজনক তথ্য নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর তত্বাবধায়ক মো: আব্দুল হান্নান, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড তত্বাবধায়ক কাজী আবু জাফর ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী লিমিটেড এর তত্বাবধায়ক মো: রাশেদুল ইসলাম।

তারা সমন্নিত ভাবে জানান তিনটি ডিপোতে ৫১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা ও হবিগঞ্জ জেলায় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন মিলে প্রতিদিনের চাহিদা রয়েছে ৩ লক্ষ ১০ হাজার লিটার। ফিলিং স্টেশন ও পেক পয়েন্ট গুলোতে চাহিদা অনুযায়ি সরবরাহ হচ্ছে। তিনটি ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে, সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ