ঢাকা [english_date] | [bangla_date]
প্রকাশিত: 2:42 AM, April 10, 2026
স্বৈরাচারী শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তা মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক-এর ওপর ফ্যাসিস্ট আমলের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁকে সসম্মানে স্বপদে ফিরিয়ে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সৈয়দ জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ।

বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদের আহবায়ক কবি সুফি চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান, Sword of Honour-প্রাপ্ত মেজর জিয়াউল হক একজন দেশ প্রেমিক অফিসার। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকান্ডের পর এক সময় তাকে গুম করা হয়। দুই রাত গুম থেকে নিজ বুদ্ধিমত্তায় তিনি পালাতে ও জীবন রক্ষার্থে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় তার নামে ৩টি ফাঁসির রায় সহ ডজন খানেক সাজানো মামলা দেয়া হয়। মেজর জিয়াকে ফাঁসাতে দেয়া হয় জঙ্গি ট্যাগ। এমন কি তাকে প্রতিটি জঙ্গি দলের লিডার বলে প্রচার চালানো হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩টি ফাঁসির রায় স্থগিতের জন্য মেজর জিয়া ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছেন এবং বাকী মামলাগুলো থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য তিনি ‘রাজনৈতিক মামলা রিভিউ কমিটি’তে আবেদন করেছেন।
মেজর জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে এ সকল অন্যায়ের সুরাহার জন্য বক্তাগণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর এবং প্রধানমন্ত্রী দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট কূটনীতিক সাকিব আলী, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এখনো প্রশাসন মূলত বিগত সরকারের আমলের আদলেই পরিচালিত হচ্ছে।
সাকিব আলী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও, বিগত দেড় বছরে অনেক বিতর্কিত কর্মকর্তা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, যা প্রশাসনিক সংস্কারের পথে বড় বাধা। তিনি মেজর জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তাকে একজন দেশপ্রেমিক ও সাহসী যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আপসহীন ও দুর্নীতিমুক্ত চরিত্রের কারণে স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে তিনি সব সময়ই ভয়ের কারণ। ওই ব্যক্তির নিরাপত্তা ও জীবন সংশয়ের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে কূটনীতিক জানান, উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও যোগ করেন, সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে জিয়া দেশে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। মূলত প্রশাসনিক জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণেই এখন পর্যন্ত তাকে দেশে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
লে. কর্নেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মেজর জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রধান আসামিদের ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হয়েছে এবং তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব মামলায় জড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি একে ‘ইনসাফের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেন। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে একটি নিরাপদ পরিবেশে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।”
জিয়াউল হকের সামরিক জীবনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন-তিনি বিএমএ-তে প্রশিক্ষণকালীন সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জনকারী একজন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মেধাবী অফিসার ছিলেন। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের সময়ই তিনি ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের কারণগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, যা তার দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। মৌলভীবাজারের অন্যতম কৃতি সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রাপ্য সম্মান না দিয়ে ফাঁসির আসামি হিসেবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন সরকারের আমলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মেজর জিয়াকে তার প্রাপ্য মর্যাদার আসনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মেজর (অব.) জামাল হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেজর (অব.) জামাল হায়দার। সম্প্রতি মৌলভীবাজারে এক জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মাথায় থাকা ‘মুক্তির ক্যাপ’ প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশপ্রেমের প্রতীকী সংহতি প্রকাশ করেন। জুলাই মাস থেকে সার্বভৌমত্বকামী মানুষেরা এই ক্যাপ ব্যবহার করে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকÑসবাইকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মেজর (অব.) জামাল হায়দার বলেন, “মেজর জিয়ার ওপর যে অমানবিক ও অনৈতিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তা থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না।”
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গণতন্ত্রকামী নেতাদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অমানবিক ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অবস্থান থেকে পরিত্রাণের দাবি জানিয়ে তিনি এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সৈয়দ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে ও জিয়া মুক্তি পরিষদের সদস্য সচিব বুলবুল আহমেদ সুজেল এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা থেকে এসে অংশগ্রহণ করেন ও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কূটনীতিক ব্যক্তিত্ব সাকিব আলী, লে: কর্ণেল (অব:) সিদ্দিকুর রহমান, মেজর (অব:) জামাল হায়দার, মেজর (অব:) মুজাহিদ মনির, মেজর অব লুৎফুল হক।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেজর জিয়ার নানা মো: ওমর ফারুক, চাতাতো ভাই প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ মহসীন, ফুফু নূর জাহান সোয়ারা, আব্দুল ওয়াদূদ খান, কামাল উদ্দিন বাবু, এডভোকেট মোশতাক আহমদ মম, ব্যবসায়ী সৈয়দ মহি উদ্দিন শাহীন, এডভোকেট মো: আবু তাহের ।
প্রধান সম্পাদক: নুরুল ইসলাম শেফুল অ্যাডভোকেট
সম্পাদক: মোঃ মতিন বকস
নির্বাহী সম্পাদক: শরীফ আহমেদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আফরোজ রায়হান
বার্তা সম্পাদক: পায়েল আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
মল্লিক কমপ্লেক্স পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০
ই-মেইল:nisheful@gmail.com
মোবাইল:+880 1778887058.01711224307.
01706760730,01711653241
Design by Raytahost