রাজনগরে কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টির তান্ডব

প্রকাশিত: 9:48 PM, April 2, 2026

রাজনগরে কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টির তান্ডব

রাজনগরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। ঝড় ও শীলা বৃষ্টির তান্ডবে গাছ পালা, বসত বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

১ এপ্রিল বুধবার স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, রাজনগরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টির সময় উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের দেওয়ান দিঘির পাড়ের নকুল করের বসতঘর ও তেলিজুড়ি গ্রামের ঊষা কেজি স্কুল নামে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচগাও ইউনিয়নের সারামপুর, রক্তা, কানিকিয়ারি ও পাঁচগাও গ্রামের ৭ টি পরিবারের বসতঘরের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তাছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় শত শত গাছপালা ও বসতবাড়ি, ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তান্ডবে মৌলভীবাজার-রাজনগর সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর বিশাল মরা গাছ উপড়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ঝড়ের সময় অন্যান্য সড়কের ওপর ছোট বড় অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় প্রচেষ্টায় গাছগুলো অপসারণ করে।

স্থানীয়রা জানান, এখনো রাস্তার উভয় পাশে শতশত পোকায় ধরা গাছের নিচ দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিকরে পোঁচনধরা মরা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ গাছ কেটে ফেলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ও স্থায়ী পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশাসনের কাছে জোর দাবী তাদের।

ক্ষতিগ্রস্ত নকুল কর জানান, আমরা সবাই ঘরের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি ঘরের চালসহ পুরো উপরের অংশ ভেঙে উড়ে গেছে। ঘরের কোনো জিনিসপত্রই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরিবারে আট সদস্য নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাঁচগাও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ রাসেল বলেন, আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আচমকা কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে বসতবাড়িসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সকল তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসনে খুব শীঘ্রই পাঠাবো।উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন এবং ঘর পুনর্নির্মাণে টিনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাছাড়া ঝড় ও শীলা বৃষ্টির তান্ডবে আমিনাবাদ চাবাগানের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১৬ টি চা শ্রমিক পরিবারকে চাল ও টিন দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাছাড় ঊষা কেজি স্কুল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন বান্ডিল টিন ও নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি আরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে।

Share this: