মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে মোংলা উপজেলা প্রশাসন।

প্রকাশিত: 12:01 AM, May 30, 2021

মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে মোংলা উপজেলা প্রশাসন।

করোনা সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে মোংলা উপজেলা প্রশাসন। আগামীকাল রোববার সকাল থেকে এ পৌরসভা এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে ৮ দিনের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার মোংলায় নতুন করে ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের ১০ দিনে উপজেলায় সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৪৯ জনের। বন্দরনগরী হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা কাজে এখানে লোকজন আসে। ফলে সংক্রমণের হার বাড়ছে বলে মনে করছেন মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জীবিতেশ বিশ্বাস।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কমলেশ মজুমদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হঠাৎ করে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মোংলায় একটি সমুদ্রবন্দর আছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে জাহাজ ও কার্গোতে আসে। এসব কারণে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। আমরা সবাইকে বলছি, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থায় কেউ যেন বাইরে না বের হন। বিশেষ প্রয়োজনে বের হতে হলে অবশ্যই যেন মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।’

ইউএনও বলেন, ‘যেহেতু এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের অধিকাংশই পৌর শহরের। তাই রোববার সকাল থেকে পৌরসভাজুড়ে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আমরা মাইকিংসহ প্রচারণা করেছি। পৌরসভা থেকেও মাইকিং করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে সতর্কতা হিসেবে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আগামীকাল রোববার সকাল থেকে এ পৌরসভা এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে ৮ দিনের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ দফা নির্দেশনাগুলো হলো—
১) মাস্ক পরা ব্যতীত কাউকে পাওয়া গেলে তাকে আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনা হবে।
২) পৌর শহরে প্রবেশ সীমিত থাকবে। জরুরি পরিবহন ব্যতীত কোনো যানবাহন ঢুকবে না। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।
৩) ওষুধ, জরুরি কৃষিপণ্য ব্যতীত সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
৪) কাঁচাবাজার, মুদিবাজার, মাংস, মাছ ও ফলের দোকান সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
৫) হোটেল–রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না। তবে পার্সেল নেওয়া যাবে।
৬) অন্য এলাকা, লাইটার জাহাজ, বড় জাহাজ থেকে কেউ পৌর এলাকায় নামতে/প্রবেশ করতে পারবে না। প্রয়োজনে জাহাজে বাজার বা খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোংলা পোর্ট পৌরসভা ব্যবস্থা করবে।
৭) নদী পারাপারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৬ জনকে (আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিহিত অবস্থায়) নৌকায় নেওয়া যাবে।

ইউএনও বলেন, পৌরসভার সব প্রবেশমুখে চেকপোস্ট থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। কেউ বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে যেন সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সে জন্য সবাইকে বিধিনিষেধ পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ূন কবীর জানান, বাগেরহাটে এ পর্যন্ত করোনায় মোট ১ হাজার ৫০৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪৮ জন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ