বোট ক্লাবের সেদিনের ঘটনা নিয়ে যা বললেন নাসির

প্রকাশিত: 4:04 PM, July 4, 2021

বোট ক্লাবের সেদিনের ঘটনা নিয়ে যা বললেন নাসির

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমণি ‘ব্ল্যাকমেইল করতে মিথ্যা অভিযোগ’ তুলেছেন দাবি করে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমার একটাই প্রশ্ন, ঘটনার চার-পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি (পরীমণি) কেন থানায় গেলেন না বা মামলা করলেন না? কেন থানায় না গিয়ে উনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্পর্শকাতর চিঠি (ফেসবুক পোস্ট) লিখলেন? তার এক ঘণ্টার মধ্যে অনেক ক্যামেরা, সাংবাদিকদের জড়ো করলেন? চোখে গ্লিসারিন লাগিয়ে কান্না করলেন। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। আমার দুর্ভাগ্য, পরবর্তী সময়ে আমাকে অ্যারেস্ট করা হলো। তিনি (পরীমণি) আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনেছেন।

গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে রাজধানীর সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদীর তীরে ঢাকা বোট ক্লাবে হেনস্থার অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী পরীমণি। তারও পাঁচদিন আগে (৮ জুন রাতে) সেখানে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরের দিন (১৪ জুন) ওই ক্লাবের সদস্য ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরীমণি যার সঙ্গে সেই বোট ক্লাবে গিয়েছিলেন সেই তুহিন সিদ্দিকী অমি এবং অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয় সেই মামলায়। সেই মামলায় গ্রেফতার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

সেদিন বোট ক্লাবে কী ঘটেছিল- মুক্তির পর তার বর্ণনা দিয়েছেন নাসির উদ্দিন। পরীমণির অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেছেন, শুধু বোট ক্লাব নয়, উত্তরা ক্লাব, ঢাকা ক্লাবসহ বাংলাদেশের নামীদামী ক্লাবগুলোতে এত স্টাফ থাকে, যেখানে এত মানুষজন থাকে; এত মানুষজনের মাঝখানে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নেই। কোন জংলির পক্ষেও বোট ক্লাবে কাউকে ধর্ষণ করার সুযোগ নেই। তিনি (পরীমণি) যে অভিযোগটি করেছেন এটি মিথ্যা।

তাহলে ওইদিন বোট ক্লাবে কী ঘটেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ক্লাবের এক মেম্বারকে উনি গালাগাল করছিলেন। আমি দাঁড়িয়ে তাকে (পরীমণিকে) বলছি, প্লিজ বি কুল। এতে তিনি আমাকেও গালি দিয়েছেন। ওই সময় তিনি গ্লাস ও প্লেট ছুঁড়ে ফেলেছেন। ২০ থেকে ২২ গ্লাস-প্লেট ভেঙে ফেলার পর আমি দাঁড়িয়ে তাকে শান্ত হতে বলেছি। এরপর তিনি আমার দিকেও একটার পর একটা গ্লাস ছুঁড়ে মারেন। একটা গ্লাস এসে আমার ঘারে লাগে। এরপর আমি সিকিউরিটি ডাকলাম। অবশ্য ইনহাউজ সিকিউরিটি তখন চলে গেছে। পরে আমি বাইরের সিকিউরিটি ডাকলাম। তাদের আসতে একটু দেরি হয়েছিল। এরই মধ্যে জেমি (পরীমণির সঙ্গে আসা) নামে একটা ছেলে পেছন থেকে আমাকে জোরে আঘাত করে। এসময় আমাদের ক্লাবের কয়েকজন মেম্বারও উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে আটকায়। পরে সিকিউরিটি গার্ড এসে তাদের নিবৃত্ত করে। তারপর আমি চলে যাই। আমি যাওয়ার পর তাদের বোধহয় গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

পরীমণির হত্যা চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমার সঙ্গে তার তো কোনও পরিচয় বা কোনও সম্পর্ক নেই। তাকে আমি কেন হত্যা করতে যাবো? তার সাথে আমার কোনও শত্রুতা নেই, মিত্রতাও নেই। তাকে আমি চিনিও না। তিনি (পরীমণি) নিজেও বলেছেন, তিনি আমাকে চেনেন না। তাহলে আমি তাকে কেন হত্যা করতে যাবো? আর সেখানে হত্যা চেষ্টার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। সেখানকার সাক্ষী হলো বোটক্লাবে ওই মুহূর্তে যত স্টাফ ছিল তারা সকলেই। ওই সময়ে স্টাফ ছাড়াও আমাদের মেম্বারও কয়েকজন ছিলেন।

নিজের পরিচয় তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী বলেন, আমি কেমন তা অনেকেই জানেন। ছাত্রজীবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নির্বাচিত জিএস ছিলাম। ঢাকার প্রথম বিভাগের ফুটবলার ছিলাম। উত্তরা ক্লাবের তিনবার সভাপতি ছিলাম। আমি কোনও দিন হাজত দেখিনি। কিন্তু একটা মিথ্যা মামলায় সেটা দেখলাম। রিমান্ডে ১২ দিনসহ মোট ১৮ দিন জেল-হাজতে কাটিয়েছি। সত্যি কোনও অন্যায় করলে আফসোস ছিল না। আশা করি তদন্তকারী সংস্থা সঠিক বিষয়টি তুলে আনবে।

পরীমণির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুন নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই বিমানবন্দর থানায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা দায়ের করে। পরে তাদের পরীমণির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় মুক্তি পান নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তার আগের দিন তিনি পুলিশের করা মাদক মামলাতেও জামিন পান। তারও একদিন আগে মঙ্গলবার একই আদালতে পরীমণির করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তার জামিন মঞ্জুর হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ