প্রাথমিক উপবৃত্তির ১২৫১ শিক্ষার্থীর টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক চক্র

প্রকাশিত: 8:03 PM, June 1, 2021

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাসহ সাতটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল অ্যাকাউন্টে আসা প্রাথমিক উপবৃত্তির টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। উপবৃত্তির ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫০ টাকা হারিয়ে হতাশায় দিন কাটছে এসব অভিভাবকদের।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে উপবৃত্তির টাকা সহজে পৌঁছে দেয়ার জন্য ‘নগদ’ এর সঙ্গে চুক্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি চক্র অনেক অভিভাবকের কাছ থেকে এসব মোবাইল অ্যাকাউন্টের পিনকোড ও পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় ও রাজধানী ঢাকার একটি চক্র উপবৃত্তির যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। তারা সারা দেশে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সরলমনা অভিভাবকদের মেসেজ দিয়ে অভিনব কৌশলে পিনকোড ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করে নেয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার আঐ আব্দুস ছত্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক অভিভাবকেরা জানান, তাদের মোবাইল ফোনে টাকার পরিমাণসহ মেসেজ আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় আপনার উপবৃত্তির টাকা পেতে হলে এক মিনিটের মধ্যে কোড বলুন। নিকটস্থ মোবাইল এজেন্টের কাছে গেলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা দিয়ে দেবে। এই আশ্বাসে আমরা কোডটা দিয়ে দিই। কিন্তু আমরা টাকা উত্তোলনের জন্য এজেন্টের দোকানে গেলে তারা বলে মোবাইলে কোনো টাকা নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক কল্যাণ দেব বলেন, উপজেলার প্রায় সব স্কুল থেকেই হ্যাকাররা একই কৌশলে তার বিদ্যালয়ের ১০-১২ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একই অভিযোগ করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা আব্দুল হাকিম। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমার উপজেলায় প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ২৫৭ জন শিক্ষার্থীর মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা প্রতারকরা অভিনব কৌশলে পিনকোড ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। আমরা এপ্রিল মাসের ৮ তারিখে স্কুলগুলোর নামসহ শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপবৃত্তি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার এম শাহজান আহমদ বলেন, আমাদের জেলায় মোট ১২৫১ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের টাকা প্রতারণা করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর পরই জেলার সব উপজেলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ