ঢাকা [english_date] | [bangla_date]
প্রকাশিত: 6:41 AM, February 28, 2026
মতিন বকশ:প্রথমে ধর্ষণ তারপর শালিস তারপর ধরে নিয়ে আবার ধর্ষণ এবং হত্যা। নরসিংদির এই ঘটনা আইয়ামে জাহিলিয়াত কে স্বরণ করে দিল।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবের (আইয়ামে জাহেলিয়া) অন্ধকার যুগ ছিল সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে চরম বর্বরতা ও অজ্ঞতার সময় (খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ৬১০ খ্রি.) [৭]। এ সময়ে মূর্তিপূজা, কন্যাসন্তান জীবন্ত কবর দেওয়া, গোত্রীয় যুদ্ধ, মদ্যপান, জুয়া ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য প্রথা সমাজে প্রচলিত সামাজিক ও পারিবারিক বর্বরতা: নারীদের কোনো অধিকার ছিল না এবং তাদেরকে ভোগের বস্তু মনে করা হতো [২]। সামাজিক লজ্জার ভয়ে কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো [১]।
গোত্রীয় সংঘাত ও সহিংসতা: গোত্রের মানসম্মান রক্ষার জন্য ছোটখাটো কারণে বছরের পর বছর যুদ্ধ চলত (যেমন: বুয়াস বা ফুজ্জারের যুদ্ধ) [১০]। লুটতরাজ ও খুন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা
অনৈতিকতা: মদ্যপান, জুয়া, ব্যভিচার ও সুদখোরি ছিল সমাজের সাধারণ সংস্কৃতি।
এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর ইসলামের আলোর মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন।
ইসলামী আইনশাস্ত্র মোতাবেক ধর্ষকের শাস্তি ব্যভিচারকারীর শাস্তির অনুরূপ। তবে অনেক ইসলামী স্কলার ধর্ষণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন।
শিরক ও হত্যার পর ব্যভিচার সুস্পষ্ট হারাম বড় ধরনের অপরাধ। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না।
নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা আল ইসরা, আয়াত : ৩২)
প্রখ্যাত তাফসিরবিশারদ ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, “উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ‘ব্যভিচার করো না’-এর চেয়ে ‘ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না’ এটি অনেক বেশি কঠোর বাক্য।” এর সহজ অর্থ হলো, যেসব বিষয় ব্যভিচারে উদ্বুদ্ধ করে ও ভূমিকা রাখে সেগুলোও হারাম।
ধর্ষণের শাস্তির ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিষয়টির স্পর্শকাতরতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এক হাদিসে আছে, রাসুল (সা.)-এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে হদের শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ২৫৯৮)
[উল্লেখ্য, যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত রয়েছে সেগুলোকে হদ বলে]
অন্য হাদিসে আছে, গণিমতের পঞ্চমাংশে পাওয়া এক দাসির সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন এক গোলাম জবরদস্তিপূর্বক ব্যভিচার (ধর্ষণ) করে। এতে তার কুমারিত্ব নষ্ট হয়ে যায়।তাই ইসলাম ধর্ষকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করে।
নরসিংদীর ঘটনায় ইনসাফ ভিত্তিক বিচার হল তরীত আসামি গ্রেফতার করে এই বিচার সম্পন্ন করা। নতুবা দেশের মানুষ ঘরে থেকে নিরাপদ মনে করবে না এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং আবাদ চলাফেরা করতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলা কিন্তু স্বাভাবিক।
মতিন বকশ সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।
প্রধান সম্পাদক: নুরুল ইসলাম শেফুল অ্যাডভোকেট
সম্পাদক: মোঃ মতিন বকস
নির্বাহী সম্পাদক: শরীফ আহমেদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আফরোজ রায়হান
বার্তা সম্পাদক: পায়েল আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
মল্লিক কমপ্লেক্স পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০
ই-মেইল:nisheful@gmail.com
মোবাইল:+880 1778887058.01711224307.
01706760730,01711653241
Design by Raytahost